
কক্সবাজারের টেকনাফে ঘোরাঘুরির কথা বলে ডেকে নিয়ে পাঁচ যুবককে অপহরণের পর মানব পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযান চালিয়ে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় মো. আনাস ওরফে মুন্না (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং জিরো পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া পাঁচজন হলেন—আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)। তারা সবাই কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিঠাছড়ি এলাকার বাসিন্দা। আটক মুন্না টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।
এসআরবি ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে পর্যটন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে মুন্নাসহ একটি চক্র ওই পাঁচ যুবককে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টেকনাফের সাবরাংয়ে নিয়ে যায়। পরে রাতে মুন্নার বাড়িতে থাকার কথা বলে তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নৌপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
১৬ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসআরবি-১৫-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল রোববার ভোরে খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালালে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় পাঁচ যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং মুন্নাকে আটক করা হয়।
এসআরবি কর্মকর্তা আ ম ফারুক জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ও আটক ব্যক্তিকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।